কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬ এ ০২:৫৫ PM

নৌ-শুমারির পরিচিতি ও উদ্দেশ্য

কন্টেন্ট: পাতা

নৌযান শুমারি ২০২৬

বাংলাদেশ সমুদ্রগামী ও উপকূলীয় নৌযান চলাচল উপযোগী একটি নদীমাতৃক বদ্বীপ এবং পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ অভ্যন্তরীণ নৌপথের দেশ। এই নৌপথ এবং খাল-বিল-হাওড়ে বিভিন্ন আকার ও ধরনের অসংখ্য নৌযান চলাচল করে। আইনানুসারে সকল নৌযানের রেজিস্ট্রেশন/নিবন্ধন করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও বর্তমানে চলাচলরত অনেক নৌযানের রেজিস্ট্রেশন/নিবন্ধন এবং সার্ভে সনদ নেই। সরকারি/বেসরকারি কোন দপ্তর/প্রতিষ্ঠানের নিকট অভ্যন্তরীণ নৌযানের কোন পরিসংখ্যান ও সমন্বিত ডেটাবেজ না থাকায় সাশ্রয়ী এই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে নীতি নির্ধারণ ও পরিকল্পনা গ্রহণ ব্যহত হচ্ছে।

জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) নিয়মিতভাবে বিভিন্ন শুমারি ও জরিপ পরিচালনা করে। তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, সংকলন ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিবিএস বিভিন্ন সংস্থার পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং কর্মকৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। বিবিএস নিজস্বভাবে পরিসংখ্যান প্রণয়নের পাশাপাশি পরিসংখ্যান সংক্রান্ত কার্যক্রমে বিভিন্ন সংস্থার অনুরোধের প্রেক্ষিতে সময়ে সময়ে বিভিন্ন শুমারি/জরিপ পরিচালনা করে থাকে। এই ধারাবাহিকতায়, নৌপরিবহন খাতকে আধুনিক, নিরাপদ ও পরিকল্পিতভাবে উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি নির্ভুল, হালনাগাদ ও সমন্বিত ডাটাবেইজ তৈরির উদ্দেশ্যে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অনুরোধে ও আর্থিক সহায়তায় প্রথমবারের মতো ২০-২৯ আগস্ট ২০২৬ সময়ে দেশব‌্যাপী ‘নৌযান শুমারি ২০২৬’ পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ সময়ে দেশের ইঞ্জিনচালিত সকল নৌযানসমূহের ডাটাবেইজ প্রণয়নের লক্ষ্যে ট্যাবে কেন্দ্রীয়ভাবে CAPI অ্যাপসে সন্নিবেশিত শুমারি প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে নৌযানের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হবে। শুমারিতে যাত্রীবাহী (জাহাজ), যাত্রীবাহী (বোট), বালিবাহী, কার্গো, লঞ্চ, ট্রলার, ড্রেজার, ফেরি এবং প্রান্তিক পর্যায়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রকার ইঞ্জিনচালিত নৌযানসহ প্রায় ২৬ ধরনের বেশি নৌযানের তথ্য সংগ্রহ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

১.০ পটভূমি

দেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয় এবং অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত নৌযানসমূহের ডাটাবেইজ প্রবর্তন এবং ডাটাবেইজ প্রবর্তনের মাধ্যমে ডাটাবেইজে অন্তর্ভুক্ত নৌযানসমূহকে Inland Shipping Ordinance, 1976 এবং Merchant Shipping Ordinance, 1983 মোতাবেক নিবন্ধনসহ অন্যান্য কার্যক্রমে ব্যবহারের লক্ষ্যে নৌপরিবহন অধিদপ্তর কর্তৃক বিবিএস এর মাধ্যমে নৌযান শুমারি পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নৌযান শুমারি পরিচালনার নিমিত্ত “নৌযানের ডাটাবেইজ তৈরি ও নৌযান ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ” শীর্ষক একটি প্রকল্প নৌপরিবহন অধিদপ্তর কর্তৃক পরিকল্পনা কমিশন হতে ২০/০৩/২০২৫ খ্রি. তারিখে অনুমোদন করানো হয়েছে এবং ২৩/০৪/২০২৫ খ্রি. তারিখে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় হতে প্রশাসনিক আদেশ জারি করা হয়েছে। উক্ত প্রকল্পের আওতায় নৌযান শুমারি পরিচালনার জন্য গত ২১ আগষ্ট, ২০২৫ খ্রি. তারিখে নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও বিবিএস-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। নদীমাতৃক বাংলাদেশে নৌপরিবহন খাতের সঠিক পরিসংখ্যানের অভাব দূর করতে এবং এই খাতকে আধুনিক ও নিরাপদ করতে ‘নৌযান শুমারি ২০২৬’ একটি মৌলিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

১.১ নৌযান শুমারির উদ্দেশ‌্য

  • বাংলাদেশের সকল সমুদ্রগামী, উপকূলীয় এবং অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত নৌযান এবং ডাম্ববার্জ ও অন্যান্য যে কোন নৌযান যা ইঞ্জিনচালিত নয়, তবে অন্য কোন ইঞ্জিনচালিত নৌযান দ্বারা টেনে বা ধাক্কায় চালিত হয়, এরূপ সকল নৌযানসমূহের ডাটাবেইজ প্রণয়নের লক্ষ্যে নৌযান শুমারি পরিচালনা করা;
  • নৌপরিবহন খাতের উন্নয়ন ও পরিকল্পনার জন্য প্রয়োজনীয় পরিসংখ্যানিক তথ্য নিশ্চিত করা;

১.২ নৌযান শুমারির আওতা

  • বাংলাদেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয়, অভ্যন্তরীণ এবং অন্যান্য (বিভিন্ন থিম পার্ক, ওয়াটার পার্ক বা রিসোর্টের কৃত্রিম লেক বা জলাশয়ে বিনোদনের জন্য ব্যবহৃত ইঞ্জিন চালিত ছোট-বড় নৌযান বা স্পিডবোট) জলসীমায় চলাচলকারী সকল ইঞ্জিনচালিত নৌযান;
  • ডাম্ব বার্জ (Dumb Barges) এবং অন্য যেকোনো নৌযান যা নিজস্ব ইঞ্জিনে চলে না, কিন্তু অন্য কোনো যন্ত্রচালিত নৌযান দ্বারা টেনে বা ধাক্কা দিয়ে চালানো হয়, এরূপ সকল নৌযান;
  • সামরিক বাহিনীর নিজস্ব তত্ত্বাবধানে পরিচালিত সকল নৌযান/জাহাজ এবং তাদের মালিকানাধীন যে সকল নৌযান বর্তমানে অন্যান্য বাহিনী বা সংস্থার কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছে, সেগুলো এই নৌ-শুমারির আওতার বাইরে থাকবে;
  • সাধারন নৌকা যা ইঞ্জিনচালিত নয় তা শুমারির আওতার বাইরে থাকবে।

১.৩ নৌযান শুমারির গুরুত্ব

  • নৌযানের নিরাপত্তা, দুর্ঘটনা হ্রাসে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ;
  • নৌ-পরিবহন খাতে নিয়োজিত মালিক ও শ্রমিকদের নির্ভুল ডাটাবেইজ ব্যবহারের মাধ্যমে নৌ-দুর্ঘটনা পরবর্তী প্রকৃত ভুক্তভোগীদের দ্রুত শনাক্তকরণ এবং স্বচ্ছতার সাথে আর্থিক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিতকরণ;
  • নাবিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির নিমিত্ত প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান;
  • নৌ পরিবহন ব্যবস্থার নীতি নির্ধারণ ও পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য একটি সমন্বিত ডাটাবেইজ তৈরি করা;
  • শুমারির মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত ডাটাবেইজ বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক অফিশিয়াল ডাটা হিসেবে ব্যবহার।
  • সরকারি/বেসরকারি কোন দপ্তর/প্রতিষ্ঠানের নিকট অভ্যন্তরীণ নৌযানের কোন নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান না থাকা;

১.৪ শুমারীর সময়সূচী

আগামী ২০-২৯ আগস্ট ২০২৬ সময়ে দেশব‌্যাপী ‘নৌযান শুমারি ২০২৬’-এর মূল তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

নৌযান শুমারির লিস্টিং অপারেশন (প্রাথমিক তালিকা প্রণয়ন) গত ৪ই মে ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে ১৭ মে ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত পরিচালিত হয়। এছাড়া ০৯ – ১৪ জুলাই ২০২৬ সময়ে জোনাল অপারেশন পরিচালিত হয়।

১.৫ শুমারির স্লোগান

"নৌযান শুমারি সফল করি, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ি"

পরিশেষে, নৌযান শুমারির তথ্য ভবিষ্যতে নিরাপদ নৌপরিবহন নিশ্চিতকরণ, নৌপথে জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, নৌযান নিবন্ধন ব্যবস্থার উন্নয়নে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় কার্যকর নীতিনির্ধারণ এবং নৌখাতের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ২০–২৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে সকল অংশীজনদের সম্মিলিত সমর্থন ও সহযোগিতায়, দেশব্যাপী প্রথমবারের মতো একটি সফল ও সুসমন্বিত নৌ শুমারি পরিচালনা করতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন